ব্যাংক খাতে ছদ্মনামে শেয়ার ধারণ এবং আর্থিক অনিয়ম বন্ধে নতুন নীতিমালা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি জারি করা এই নীতিমালার লক্ষ্য হলো ব্যাংকের প্রকৃত মালিকানা কাঠামোতে স্বচ্ছতা আনা। গত এক দশকে বেশ কিছু ব্যাংক সংকটে পড়েছে মনোনীত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া এবং বেনামি শেয়ারধারীদের কারণে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে এসব অনিয়ম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠান যদি ২ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার ধারণ করে, তবে তাদের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকানা (আলটিমেট বেনিফিশিয়াল ওনার্স) নির্ধারণ করা হবে। পৃথক প্রতিষ্ঠানের নামে শেয়ার ধারণ করলেও তা এই হিসাবের আওতায় আসবে। ঘোষিত শেয়ার কাঠামোতে কোনো অসংগতি থাকলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হবে। যদি অসংগতি ধরা পড়ে, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং মালিকানা কাঠামো পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারবে।
নীতিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংককে শেয়ারধারীদের তথ্যভান্ডার তৈরি করতে হবে এবং প্রতি প্রান্তিক শেষে ১০ দিনের মধ্যে এই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এছাড়া, চলমান কোনো প্রান্তিকে মালিকানা পরিবর্তন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতে মালিকানা নিয়ে চলা অনিয়ম বন্ধ হবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতিমালা কার্যকর হলে দেশের ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে।
