১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান; পাসপোর্ট না থাকায় ট্রাভেল পাসেই প্রত্যাবর্তন।

Image

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। লন্ডন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দলীয় ও কূটনৈতিক সূত্র।

জানা গেছে, তারেক রহমানের বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং সেটি নবায়ন সম্ভব না হওয়ায় তিনি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ‘ট্রাভেল পাস’ বা এককালীন যাতায়াতপত্রের জন্য আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, এই ট্রাভেল পাস কেবল বাংলাদেশের নাগরিকদেরই ইস্যু করা হয়। আইন ও কূটনীতি সংশ্লিষ্টদের মতে, কেউ যদি অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকেন, তবে তাকে সে দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেই ভ্রমণ করতে হয়। সে বিবেচনায় ট্রাভেল পাসে দেশে ফেরা তারেক রহমানের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণের গুঞ্জনকে ভিত্তিহীন প্রমাণ করে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নাগরিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নিয়ম অনুযায়ী ট্রাভেল পাস দ্রুত ইস্যু করা সম্ভব এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি বাধা নেই।

ভ্রমণ সূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান ২৪ ডিসেম্বর লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২০ ফ্লাইটে রওনা হবেন। ফ্লাইটটি সিলেটে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির পর ২৫ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং ব্যক্তিগত স্টাফগণ সফরসঙ্গী থাকবেন।

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভিভিআইপি প্রোটোকল অনুযায়ী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোতায়েন থাকবে। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও কয়েক হাজার প্রশিক্ষিত নেতাকর্মীকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি না হয়।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে দল সারাদেশে প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিমানবন্দর থেকে তাঁর গন্তব্য পর্যন্ত পথে ব্যাপক জনসমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারেক রহমান নিজেই নেতাকর্মীদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং জনদুর্ভোগ এড়ানো হয়। এ কারণে রাস্তায় অতিরিক্ত তোরণ বা পোস্টার না লাগানো এবং বিমানবন্দরের ভেতরে ভিড় না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান প্রথমেই গুলশানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে নিশ্চিত করেছে দলীয় সূত্র। দীর্ঘদিন পর মা ও ছেলের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আবেগের সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলায় আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পর তাঁর দেশে ফেরার আইনি পথ সুগম হয়। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

📰 www.prothombangladesh.press
December 19, 2025

১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান; পাসপোর্ট না থাকায় ট্রাভেল পাসেই প্রত্যাবর্তন।

<< বিস্তারিত কমেন্টে >>