আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে নির্বাচনি প্রচার চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে। বাম কানের নিচে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফরায়েজী নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনি প্রচারণাকালে শরিফ ওসমান হাদি হামলার শিকার হয়েছেন। এদিকে, ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, তাঁরা বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধের খবর পেয়েছেন এবং বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য টিম পাঠানো হয়েছে।
ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি দেশের সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন এবং বিক্ষোভের সময় তাঁর বক্তৃতায় বহু শিক্ষার্থী রাজপথে নামেন। গণঅভ্যুত্থানের পরেও তিনি রাজপথে সক্রিয় থেকে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন।
উল্লেখযোগ্য যে, এই হামলার আগেও ওসমান হাদি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিলেন। গত নভেম্বর মাসে তিনি ফেসবুকে জানিয়েছিলেন, তাঁকে হত্যা, তাঁর বাড়িতে আগুনসহ তাঁর মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সেই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগের খুনিরা’ অন্তত ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে তাঁকে কল ও টেক্সট করেছে এবং সর্বক্ষণ নজরদারিতে রাখার কথা জানিয়েছে।
রাজনৈতিকভাবে সচেতন জনগণের মতামতের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পরপরই দিনের বেলায় এই সশস্ত্র হামলাকে তারা নির্বাচন বানচাল করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য দেশবিরোধী চক্রের একটি বিশেষ বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, “অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারও যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।”
এই হামলার কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাখতে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতন মহল মনে করে, গণতন্ত্রের ওপর হামলা মানে জনগণের ওপর হামলা এবং তারা চুপ না থেকে প্রতিটি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলবে।
